শুধু পোস্টার নয়, বিতর্কিত নির্মাতা অনন্য মামুনের সদ্য মুক্তি পাওয়া ছবি ‘অস্ত্বিত্ব’র কাহিনীর বিরুদ্ধেও নকলের অভিযোগ উঠেছে। চলচ্চিত্রটির বিরুদ্ধে নকলের অভিযোগ এনেছেন তরুণ নির্মাতা শ্যামল শিশির। তার অভিযোগ, চলচ্চিত্রটির কাহিনী নিয়ে কথা বলায় কে বা কারা তার ফেসবুক আইডিও হ্যাক করেছে। এ নিয়ে তিনি থানায় জিডি ও র্যাবের কাছে অভিযোগও করেছেন।
এদিকে, শ্যামল শিশিরের অভিযোগ যাচাই করে দেখা যায়, ২০১৪ সালে কলকাতায় মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ অভিনীত সিনেমা ‘ফোর্স’-এর মূলকাহিনীর সঙ্গে মিলে গেছে ৬ মে মুক্তি পাওয়া আরেফিন শুভ ও তিশা অভিনীত ছবি ‘অস্তিত্ত্ব’!
২০১৪ সালে পশ্চিম বাংলার নির্মাতা রাজা চন্দ নির্মাণ করেন ছবি ‘ফোর্স’। বাণিজ্যিক সেই সিনেমায় নির্মাতা প্রথমবারের মত কোনো বাংলা সিনেমার বিষয়বস্তু করেছিলেন ‘অটিজম’কে। স্পেশাল চাইল্ডদের বাবা-মাকে অনুপ্রাণিত করে বানানো ওই সিনেমায় অভিনয় করেন প্রসেনজিৎ ও তার স্ত্রী অর্পিতা। ছবিতে প্রতিবন্ধী অভিমন্যু চরিত্রে অভিনয় করেন খরাজ মুখোপাধ্যায়। ছেলে অভিমন্যুর প্রতিবন্ধি স্কুলকে নিয়েই পুলিশ অফিসার বাবা প্রসেনজিতের পৃথিবী।
অন্যদিকে অনন্য মামুনের সিনেমা ‘অস্তিত্ত্বে’ দেখা যায়, প্রতিবন্ধিদের একটি স্কুল চালান ছবির প্রধান অভিনেতা ইমতু(আরেফিন শুভ)। এই স্কুলটিকে ঘিরেই তার ভূত-ভবিষ্যৎ। তার অস্তিত্ত্ব প্রতিবন্ধিদের এই স্কুলটি। এই স্কুলেই ভর্তি হয় পরী(তিশা)। স্কুলের উপর নজর পরে ডনের, কারণ স্কুলের জায়গাটা তার দরকার। যেরকম কলকাতার সিনেমা ‘ফোর্স’-এ রাজ্যের সমস্ত সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াই করে প্রতিবন্ধিদের স্কুলটি সযত্নে রাখেন প্রসেনজিৎ।
শুধু অটিজম স্কুলটি নিয়ে নয় বরং ছবিতে প্রতিবন্ধী চরিত্রে অভিনেত্রী তিশারও বেশ কিছু এক্সপ্রেশন ছিল তুমুল হিট হিন্দি সিনেমা ‘বারফি’তে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে প্রায় হুবহু মিল। কারণ বারফিতেও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অটিজম চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা বলছেন, শুধু কাহিনী একটু ঘুরিয়ে মৌলিক গল্পের মোড়ক দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে ‘অস্তিত্ত্ব’ সিনেমায়।
চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্যকার সোমেস্বর অলি বলেন, মামুন আমাকে মৌলিক গল্প হিসেবেই চিত্রনাট্য লিখতে অনুরোধ করেছেন। আমিও তাকে বিশ্বাস করেই কাজটি করে দিয়েছি। একটু কম সময়ের মধ্যেই কাজটা করতে হয়েছিলো। যদি এমন যথাযথ কোন অভিযোগ আসে তবে, তা প্রকাশ করা উচিত।
তবে, নির্মাতা অনন্য মামুন বাংলামেইলকে বলছেন, ‘যদি কেউ একফ্রেম নকল বের করতে পারেন, তাহলে আমি সিনেমা নির্মাণ ছেড়ে দিবো। ফোর্স চলচ্চিত্রটি আমি পাঁচবার দেখেছি। সিনেমা মুক্তির আগেও ট্রেলার দেখে কয়েকজন বলেছিলো সিনেমাটা ‘ফোর্স’ এর সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। কিন্তু আমি নিশ্চিত পুরো সিনেমা দেখার পর এ কথা কেউ বলতে পারবে না।’
বাংলাদেশের সিনেমায় নকলবাজি নিয়ে যখন আলোচনা সমালোচনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় পোস্টার আর গল্প নকলের অভিযোগ পাওয়া গেলো চলচ্চিত্রটির বিরুদ্ধে। বলিউডের তুমুল জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমা ‘কৃষ’-এর পোস্টারে ঋত্বিকের গলা কেটে বাংলাদেশের অভিনেতা আরিফিন শুভর মাথা কেটে বসানোর পর এবার মিল পাওয়া গেছে ছবির গল্পের সাথেও।
সূত্র:banglamail24.com
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.