
মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :
‘আমরা কারো করুণা চাই না, ত্রাণের দরকার নাই। আমরা চাই মাতামুহুরী নদীর স্থায়ী সমাধান। মাতামুহুরী নদী খনন, স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে আমাদের অবশিষ্ট জমি,স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, বাড়ি-ঘর রক্ষা করা হোক’।মাতামুহুরীর নদী তীরবর্তী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এভাবেই নিজের দাবি তুলে ধরেন।
বন্যায় ভাঙ্গন কবলিত বিভিন্ন এলাকা সরজমিন পরিদর্শনে গেলে কথা হয় কৃষক বশির আহমদের সাথে। তিনি বলেন, প্রতিবছর আমাদের এই এলাকায় বন্যা, নদী ভাঙন হয়। হাজার পরিবার গৃহহারা হয়। তখন আমরা কেউ রাস্তার ধারে, আবার কেউ কেউ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করি। ওই সময় সরকারী-বেসরকারীভাবে আমাদের ত্রাণ দেয় হয়। তাও যথেষ্ট নয়। মাতামুহুরী নদীর প্রবল স্রোতে আমাদের বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন অমুক করে দেব, তমুক করে দেব বলে চলে যায়। কাজের কাজ কিছুই হয়না। আমরা ত্রাণ চাই না’ চাই মাতামুহুরী নদীর স্থায়ী সমাধান।

কাকারা ইউনিয়নের দক্ষিণ কাকারার বাসিন্দা হাসান মুরাদ সিদ্দিকী বলেন, দেশ উন্নত হলেও নদী পাড়ের মানুষগুলোর কোন উন্নয়ন হচ্ছেনা। সরকারের পক্ষ থেকে মাতামুহুরী নদী শাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেও সেই আশ্বাস তিমিরেই থেকে যাচ্ছে।
তবে, বন্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার আন্তরিক দাবি করে উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, কয়েকদিনের ভয়াবহ বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধ পুন:নির্মাণ, মাতামুহুরী নদী তীরবর্তী ঘর-বাড়ি, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা কিভাবে রক্ষা করা যায় তা দেখার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ মোল্লার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এসেছেন। এসময় তারা চকরিয়ার বিভিন্ন ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিনের বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে প্রতিনিধি দলের কাছে। মাতামুহুরী নদী খনন এবং বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধ পুন:নির্মাণের জন্যও প্রতিনিধি দলকে অবহিত করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ মোল্লার বলেন, কয়েকদিনের ভয়াবহ বন্যায় এ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ মাতামুহুরী নদীর সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তণের প্রভাবে বৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি নিজেদের এব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.