
পাথুরে গাথা উখিয়ার ইনানী সমুদ্র সৈকত
হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :
এবারের ঈদুল আযহার ছুটি শেষ হয়ে গেলেও পর্যটকদের ঈদ আনন্দ যেন শেষ হচ্ছে না। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। কক্সবাজারের সাগর কন্যা খ্যাত উখিয়ার ইনানী সমুদ্র সৈকত। পাথুরে গাথা রুপসী কন্যা ইনানী সমুদ্র সৈকতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ঢল নেমেছে। দীর্ঘদিন পর প্রভাব পড়েছে হোটেল-মোটেল গুলোতেও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্ষ খালি নেই ইনানীতে অবস্থিত তারকা মানের হোটেল সী-পার্লসহ প্রায় সব হোটেল-মোটেল গুলোতে। ভিড় লেগে রয়েছে সমুদ্র সৈকত, বিপনী কেন্দ্র ও রাস্তাঘাটে মানুষ আর যানবাহনে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ব্যবসায়ীদের যেন দম ফেরার ফুসরত নেই। কক্সবাজার কলাতলী থেকে উখিয়ার মনখালী পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়কের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হওয়ার সুবাধে পর্যটকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ইনানীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য।
কক্সবাজার বীচ এলাকায় পাথুরের কোনো স্তুপ না থাকায় প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট পাথুর স্তুপে দাঁড়িয়ে সমুদ্র দেখার জন্য পর্যটকদের আকর্ষণ বেশি ইনানী সমুদ্র সৈকতের দিকে। এ বীচের পাটুয়ারটেকে পাথরের স্তুপ দেখলে মনে হয় যেন সৃষ্টির সব সৌন্দর্য্য স্রষ্টা এখানে ঘিরে রেখেছেন। একদিকে সাগরের গর্জন অপরদিকে অনাবিল সৌন্দর্য্য ভরপুর পাহাড়ের হাতছানি সবাইকে বিমোহিত করে তোলে।
পাটুয়ারটেকের সামান্য অদূরেই রয়েছে প্রাচীনকালের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন কানা রাজার সুড়ঙ্গ, চিংড়ির পোনার হ্যাচারি জোন ও সুপারির বাগান ঘুরে দেখলে যেন পথের সময় হারিয়ে যায়। শত শত পর্যটক বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে কক্সবাজার থেকে ইনানী ভ্রমণে যাচ্ছেন। পথে বড়ছড়া পাহাড়ি ঝর্ণা ও পাহাড় চুড়ার বিনোদন কেন্দ্রগুলোও ঢু মারছেন অনেকেই। এছাড়া সাগরের পাশে রয়েছে, বিস্তীর্ণ ঝাউবিথি। এখানে নানা প্রকার পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠে সৈকত অঙ্গন। বিস্তীর্ণ সৈকতের বালুচরে লাল কাকড়ার দৌঁড়াদৌঁড়ি পর্যটকদের বিশেষ আনন্দ দিয়ে থাকে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এবারের ঈদুল আযহার ছুটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বিদেশিরাও এবার দলে দলে বেড়াতে এসেছেন পর্যটন কন্যা ইনানীতে। ঈদের ছুটি শেষ হয়ে গেলেও অনেকে আরো দু একদিন থাকার কথা জানিয়েছেন। ঈদের দিন থেকে পাঁচদিন পর্যন্ত কোনো হোটেলের কক্ষ খালি নেই বলে জানিয়েছেন, প্যাবেল স্টোন হোটেলের ম্যানেজার মাহফুজুর রহমান। এসব পর্যটকের আনাগোনায় ইনানী সৈকত ছাড়াও হিমছড়ির ঝর্ণা, দরিয়ানগরসহ অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোতেও দেখা দিয়েছে দারুণ প্রাণ চাঞ্চল্য।
সিলেটের প্রবাসী খায়রুল আলম এসেছেন তার স্ত্রীকে নিয়ে। তিনি জানান, সকালে কক্সবাজার পৌঁছে, এরপর তারা হিমছড়ির ঝর্ণাসহ পর্যটন স্পট ভ্রমণ করে উখিয়ার ইনানী সমুদ্র সৈকতে এসেছেন। কক্সবাজার থেকে ইনানী পর্যন্ত আসার সময় ডান পাশে বিশাল সমুদ্র সৈকত ও বাম পাশে উচু পাহাড় আর মাঝখানে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে যেতে যেতে বাতাসে দারুণ লাগছিল।
ইনানী সৈকতের ব্যবসায়ী রহমত উল্লাহ বলেন, ঈদের দিন থেকে চার দিন পর্যন্ত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় ছিল বেশি আর এখন কক্সবাজারের স্থানীয়রা তাদের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে আসছেন।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের বলেন, পুলিশের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সমুদ্র সৈকতসহ অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.