
The Scorpion King মুভি টার কথা মনে আছে নিশ্চই। রেসলিং এর মাতানো রেসলার রক অভিনীত মুভি। যাই হোক। আজ আমরা জানব স্করপিওন বা কাঁকড়া বিচ্ছু সম্পর্কে।
আর্থ্রোপডা পর্বের Arachnida শ্রেণির এই প্রাণিটি কম বেশী সবার ই চেনা। লেজ উপরের দিকে বাঁকিয়ে কোমর দুলিয়ে চলা অষ্টপদী এই প্রাণিটি কত্ত কিউট তাই না! কিন্তু লেজ এর পেছনের হুলের দংশন খেলেই বোঝা যাবে আসল কিউটের নমুনা।
এন্টার্কটিকা ছাড়া বিশ্বের সর্বোত্র কমবেশি কাকড়া বিচ্ছুর দেখা মিলে। বাংলাদেশের পাহাড়ী অঞ্চল ছাড়াও আরো অনেক যায়গায় প্রাণিটির দেখা যায়।এরা ফসোরিয়াল প্রাণি মানে হলো ভূমিতে গর্ত খুঁড়ে তার মধ্যে লুকিয়ে থাকে।
এদের ১৭৮০ টি প্রজাতি আছে। এরা ভেনোমাস এনিম্যাল মানে বিষ(ভেনোম) বহন কারী। নরমালি এদের বিষ মানুষের জন্য অতটা হার্মফুল না। তবে প্রায় ২৮ টির মত প্রজাতি আছে যেমন-
Leiucerus, Hottentota, Androctonus, Centruroides সহ Buthidae পরিবারভুক্ত প্রজাতি রা যাদের বিষে মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে।
এদের বিষে বিদ্যমান নিউরোটক্সিন, এনজাইম ইনহিবিটর ইত্যাদি শিকারের মৃত্যু ঘটায় বা প্যারালাইজড করে দেয়।
এদের দেহ কিউটিকল আবৃত। আর কিউটিকলে ফ্লুওরোসেন্স রাসায়নিক যেমন বিটা-কার্বোলিন থাকে যার ফলে কিছু নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘের আল্ট্রাভায়োলেট আলোতে এরা সবুজাভ নীল ভাইব্রান্ট আলো গ্লো করে।

সবুজাভ নীল ভাইব্র্যান্ট আলো গ্লোয়িং
এরা নিশাচর তথা রাতেই সচল থাকে। এরা এক বারে অনেক পরিমান খাদ্য খেয়ে পুষ্টি জমিয়ে রাখতে পারে দেহে। মেটাবলিক হার অত্যন্ত কম। যার মূল কারণ এদের ইন-এক্টিভ আচরণ। আর দেহে জমানো সঞ্চিত খাদ্য কম খরচ হয় বিধায় এরা প্রতিকূল পরিবেশে ৬-১২ মাস পর্যন্ত অনাহারী থাকতে পারে। পরিপাক ক্রিয়া বাহ্যিক।
এদের পুরুষ ও স্ত্রী প্রাণি আলাদা।মূলত এদের যৌন প্রজনন হয়। তবে কিছু কিছু প্রজাতি তে পার্থেনোজেনেসিস দেখা যায় যেখানে অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে বাচ্চা উতপন্ন হয়।
সঙ্গমের সময় এরা এক বিশেষ রকমের নৃত্য পরিবেশন করে যার নাম (promenade a’ deux)। দেহের কম্পন আর দেহ নির্গত ফেরোমন এদের পুরুষ ও স্ত্রী কে নিজ নিজ পছন্দসই সঙ্গী বাছাইয়ে সহায়তা করে। এরা সহবাসরত অবস্থায় প্রায় ১ থেকে ২৫+ ঘন্টা থাকতে পারে। এই সময়ের মাঝে পুরুষ সঙ্গী উপযুক্ত স্থানে নিয়ে যায় স্ত্রী সঙ্গী কে যেখানে এদের ফার্টিলাইজেশন ঘটে। মজার ব্যপার হচ্ছে এদের মাঝে সঙ্গমের সময় চুম্বন, আলিঙ্গন সব ই দেখা যায়। আবার দীর্ঘক্ষণ সহবাস করতে থাকলে স্ত্রী স্কোরপিওন অধৈর্য হয়ে পুরুষ সঙ্গী কে ছেড়ে চলে যায়।
শুক্রাণু ত্যাগের পর পুরুষ স্কোরপিওন দ্রুত স্থান ত্যাগ করে যাতে সেক্স ক্যানিবালিজম এর স্বীকার না হয় অর্থাৎ যাতে স্ত্রী সঙ্গিনী কর্তৃক ভক্ষণ এর সম্মুখীন না হয় যদিও এই ঘটনা এদের মাঝে খুব বিরল।
ব্যাঙের মত এরাও Ovoviparous। মানে ডিম ফুঁটে বাচ্চা বের না হওয়া পর্যন্ত ডিম মায়ের দেহে লেগে থাকে।
যাই হোক। জামাকাপড় পড়ার সময়, জুতা পড়ার সময় সর্বদা সাবধান। এরা লুকিয়ে থাকতে পারে। আলোকে যে ভয় পায় এরা!
সূত্র: acnandanpathshala.wordpress.com – ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.