
সাপ দেখলেই বেশিরভাগ মানুষের স্বভাব তা মেরে ফেলা। তবে সব যে বিষধর নয় তা মানুষ বুঝেই না। ফলত সাপ দেখামাত্রই তাকে হত্যার জন্য ছুটে যায় মানুষ। এমনি এক বিষহীন সাপ দারাজ। নির্বিষ এই সাপটি প্রকৃতির জন্য এবং বিশেষ করে কৃষির জন্য উপকারি।
ফসলের জন্য ইঁদুর বেশ ক্ষতিকর। উৎপাদিত কৃষিপণ্যের অভাবনীয় উপকার হয় দারাজ সাপ এই ইঁদুরগুলোকে দারাজ সাপ খেয়ে ফেললে। তবে এই উপকারী সরীসৃপের প্রতি যত্নবান হওয়ার দাবি তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যারয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং বন্যপ্রাণি গবেষক ড. কামরুল হাসান জানান, আমাদের দেশের লোকজনের মধ্যে একটি কুসংস্কার রয়েছে যে, দারাজ সাপ মানেই বিষাক্ত সাপ, একে দেখলে মারবেই এরকম। এটি সাইজেও বড় এবং দেখতে অনেকটা বিষাক্ত কোবরার মতো। এ সবকিছু দেখেই লোকজন মনে করে ‘দারাজ’ও খুবই বিষাক্ত সাপ এবং তাকে মারা উচিৎ। তবে এ সাপটি সম্পূর্ণভাবে বিষমুক্ত।
এই সাপটির কোন বিষ নেই। ইঁদুরই এর প্রধান খাদ্য। একারণে এই সাপের ইংরেজি নাম ইন্ডিয়ান র্যাট স্নেক। বৈজ্ঞানিক নাম Ptyas mucosa।দৈর্ঘ্যে এরা ২০০ থেকে ৩৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
বিষের ভুল ধারণা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘অনেকের এটাও ধারণা আছে যে তার শুধু মুখে নয় লেজেও নাকি বিষ আছে। মুখের পরিবর্তে লেজ দিয়ে আঘাত করলে ওই আঘাতে স্থানটি ধীরে ধীরে পচে যাবে। আসলে এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। এই কুসংস্কারের কারণেই এ প্রজাতির সাপগুলো প্রাণ হারাচ্ছে।’
প্রাপ্তিস্থান উল্লেখ করে ড. কামরুল বলেন, এ সাপটি সারাদেশেই পাওয়া যায়। তাই এখনও থ্রেড ক্যাটাগরিতে আসেনি। তবে আগে যেরকম পাওয়া যেত তা আস্তে আস্তে কমে আসছে। এর কারণ হচ্ছে তার আবাসস্থল ধ্বংস এবং প্রজনন সমস্যা। এছাড়াও দ্বিতীয় কারণ হলো, লোকজনের হাতে প্রচুর পরিমাণ মারা পড়ে এই সাপটি।
গবেষক ড. কামরুল হাসান জানান এই সাপটি যদি কাউকে কামড়ও দেয় তবু আক্রান্ত ব্যক্তির কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। তাই এসাপটি চিনে রাখা জরুরি। অনেকেই কোবরার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলে এই সাপটিকে বিষধর ভেবে মেরে ফেলেন। তাছাড়া সাপ দেখলে মারতে হবে এই ধারণা থেকেও বেরিয়ে আসার পক্ষে এই গবেষক।
সূত্র:somoynews.tv;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.