গত বছরের এইদিন ভোররাত সোয়া ২ টায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হন তরুণ শিক্ষক নারায়ন দাশ। মা-বাবা ও ভাই-বোনের সাথে পান্তা ভাত খেতে ছুটিতে এসে নিজ বাড়ী চকরিয়ার দিগরপানখালীতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হওয়ার পর ১ বছর পুরো হলেও তার হত্যা রহস্য উদঘাটন হয়নি। মামলাও রয়ে গেছে তদন্তের মধ্যে। উল্টো এজাহার নামীয় বেশ ক’জন আসামী এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছেন।
নেপথ্য গডফাদারদের ইন্ধনে হুমকি দেয়া হচ্ছে বাদী ও তার পরিবার সদস্যদের। এমনকি নিহত নারায়নের পরিবার সদস্যরা আসামীদের ভয়ে আপন নিবাস ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন ভাড়া বাসায়।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর ভোররাত সোয়া ২ টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত ঘরের বেড়া ভেঙ্গে বাড়ীতে প্রবেশ করে। এসময় বাধা দিলে গুলি করে হত্যা করা হয় শিক্ষক নারায়নকে। ঘটনার একদিন পূর্বে নারায়ন লোহাগাড়ার আমিরাবাদস্থ কর্মস্থল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ছুটি নিয়ে অশ্বিনীর ব্রত উপলক্ষ্যে পান্তা ভাত খেতে বাড়ীতে আসেন। দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ কেড়ে নেয়ায় তিনি আর ফিরতে পারেননি কর্মস্থলে। মা-বাবা, ভাই-বোনসহ বন্ধুদের বাড়ীতে গিয়ে পান্তা ভাতও খাওয়া হয়নি তার। ভবিষ্যৎও হবেনা।
একবছর পর ফের সেইদিন ফিরে আসায় তার স্মৃতিচারণ করে শিক্ষক নারায়ন স্মৃতি সংসদের আহবায়ক চকরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রভাষক সবুজ ধর বলেন, আমাদের বন্ধু এখন শুধুই স্মৃতি। তার বলতে পারবো কিন্তু তাকে আর ফিরে পাবো না। তবুও শান্তি পেতাম যদি তাকে যারা হত্যা করেছে তাদের শাস্তি হতো। নারায়ন হত্যাকারীদের সনাক্তপূর্বক চার্জশীট দাখিল ও গ্রেপ্তারপূর্বক শাস্তির দাবিতে ২১ অক্টোবর মহাসড়কের চকরিয়ার পৌরশহরে মানববন্ধন করা হবে। সেই লক্ষ্যে বন্ধুদের নিয়ে বিভিন্ন পেশার লোকজনের সাথে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করা হচ্ছে।
দিগরপানখালীর প্রফুল্ল কুমার দাশ প্রকাশ সাচীরাম দাশের বড় ছেলে নারায়ন দাশকে হত্যার পর ছোট ভাই জয় শংকর দাশ বাদী হয়ে ৭জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আরো ১৫-১৬জনকে আসামী করে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের হয়।
এজাহারনামীয় ৭জনের মধ্যে আবদুল আজিজ প্রকাশ আজিজ (৩০) ও মোঃ শাহ আলম (৩৫) গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছে। মোঃ নুরুচ্ছমদ (৬০) নামক একজন জামিনে রয়েছে।
অপর ৪ জন যথাক্রমে মোঃ ওসমান (৩২), বেলাল উদ্দিন (৩৫), মোঃ ফরিদ (৩৪) ও নুরুল আমিন (৩২) এলাকায় প্রকাশ্যে থাকলেও রহস্যজনক কারণে আটক হচ্ছে না তারা।
এই মামলাটি প্রথমে চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন তদন্ত করলেও হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু তদন্তের কার্যক্রম দ্রুত নিস্পত্তি না হওয়ায় শিক্ষক নারায়নের পরিবার সদস্যদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
রবিবার বাদী জয় শংকর দাশ কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, আমার বড় ভাই নারায়নকে আর ফিরে পাবো না। কিন্তু খুনিদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ায় এখন আমাদের জানমাল নিয়ে সর্বদা হুমকির মুখে থাকতে হচ্ছে। মা-বাবাসহ আমি নিজ ঘরেও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ায় চকরিয়া পৌরশহরের একটি ভাড়া বাসায় আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের দাবী প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলত শাস্তি। তাই মামলার চার্জশীট দ্রুত আদালতে দাখিলের জন্য দায়িত্ববান কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
কক্সবাজার সদর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোঃ মাসুদ আলম বলেন, মামলাটি এখন পুলিশের হাতে নেই। তদন্ত করছে সিআইডি। ওই সংস্থা সঠিক তদন্ত শেষে সত্যিকার খুনিদের সনাক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। বাদী পক্ষের নিরাপত্তাহীনতার ব্যাপারে আমাকে বা থানায় জানানো হয়নি। জানানো হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরপরও সাংবাদিকদের মাধ্যমে যেহেতু নিরাপত্তাহীনতার কথাটি উঠেছে আমি থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেবো ওই পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.