
সংবাদ বিজ্ঞপ্তঃ
জাতীয় বীর, স্বাধীনতার নিউক্লিয়াসের অন্যতম প্রতিষ্ঠা, বাঙালির জাতীয় মুক্তি আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রপথিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শহীদ কাজী আরেফ আহমেদের ২৩তম শহীদ দিবস উপলক্ষে স্মরণ সভা জাসদ কক্সবাজার জেলার উদ্যোগে ১৬ ফেব্রুয়ারী বিকাল ৫টায় শহীদ কাজী আরেফ আহমেদ মিলনায়তনে কক্সবাজার জেলা জাসদ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন- জাসদ, কক্সবাজার জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ হোসাইন মাসু, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট রফিক উদ্দিন চৌধুরী, পৌর জাসদ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ, দপ্তর সম্পাদক ও জাতীয় যুবজোট কক্সবাজার জেলা সভাপতি অজিত কুমার দাশ হিমু, সহ-সম্পাদক খোরশেদ আলম অদুদ, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় শ্রমিকজোট কক্সবাজার জেলা সভাপতি আবদুল জব্বার, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কায়ছার হামিদ, কার্যনির্বাহী সদস্য একরামুল হক কন্ট্রাক্টার, শাখাওয়াত হোসেন সবুজ, মোঃ আমান উল্লাহ আমান, জাসদ নেতা মোঃ আমান উল্লাহ, আবদুর রহমান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কক্সবাজার জেলা সভাপতি আবদুল্লাহ আল শিফাত, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহদাত হোসাইন প্রমুখ।
বক্তারা শহীদ কাজী আরেফ আহমেদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, কাজী আরেফ আহমেদ বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রগতিশীলতার মশাল জ্বালিয়ে জাতিকে চলার পথ দেখিয়েছেন।
বক্তারা বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠি কর্তৃক বাঙালি জাতিকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নিশ্চিহ্নকরণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র বাঙালি জাতীয়াবাদী চেতনায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা; মুসলমান-মুসলমান ভাই আমরা মুসলমান জাতি ও পাকিস্তান মুসলমানদের দেশ ইত্যাদি বলে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প ছড়িয়ে বাঙালি জাতিকে বিভক্ত-দুর্বল-হীনবল করার বিপরীতে ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিকতাকে উর্ধে তুলে ধরে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে তীক্ষন ও তীব্র করা; পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে বাঙালির অধিকার, মুক্তি, স্বাধীনতা খোঁজার ভ্রান্ত পথে না গিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাঙালির স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রামী পথ তৈরি করা; মুক্তিযুদ্ধকে বিপ্লবী জনযুদ্ধে উন্নীত করে স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাওয়া; স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সমাজকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজে পরিণত করার বিপ্লবী সংগ্রামের পথ তৈরি করা; ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা ও ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানকে বর্বরভাবে দমন করে মোস্তাকের পথে হাঁটা বিশ্বাসঘাতক জিয়া, জাসদ, আওয়ামী লীগ ও সিপিবিসহ স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে মেরে কেটে কোণঠাসা করে পাকিস্তানপন্থীশক্তি ও পাকিস্তানপন্থার যে রাজনীতি শুরু করেছিল সেই প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ শক্তির দ্বন্ধকে জাতীয় রাজনীতির প্রধান দ্বন্ধ হিসাবে চিহ্নিত করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বৃহত্তর ঐক্য, বাম ঐক্যের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে পাকিস্তানপন্থার ধারক সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সাধারণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাধারণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ছায়ায় সমান্তরালে পুঁজিবাদ বিরোধী বিপ্লবী গণতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালনার পথ তৈরি করা; সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন এগিয়ে নিতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও শক্তির দুর্বলতম গ্রন্থি ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার’কে চিহ্নিত করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা এবং তার ধারাবাহিকতায় জাহানারা ইমামকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক গণআদালত গঠন ও গণআদালত কেন্দ্রিক জাতীয় আন্দোলন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে জাতীয় বীর ও জাতীয় নেতা কাজী আরেফ আহমেদ তাঁর দার্শনিক জ্ঞান ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগ করে গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল আন্দোলনের মৌলিক রণনীতি ও রণকৌশল নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়ন করেছিলেন।
বক্তারা আরো বলেন, কাজী আরেফ আহমেদের প্রণীত এ সকল ঐতিহাসিক মাইলফলক রণনীতি ও রণকৌশল এখনও জাতীয় রাজনীতিতে ধ্রুবতাঁরার মত পথ দেখায়।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.