নিজস্ব প্রতিনিধি; ঈদগাঁও :
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন থামছেনা। নদীতে বালু উত্তোলন চলছে দেদারছে। এতে সদরের ঈদগাঁও-ইসলামাবাদ-জালালাবাদ-পোকখালী নদী এলাকায় সড়ক ও নদীর ওপর নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ সেতু চরম হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। পাশাপাশি বালু উত্তোলন করে রাজঘাট-গজালিয়া সড়কের পাশে বালুর স্তুপ করায় হুমকিতে পড়েছে উক্ত সড়কটি। এতে করে চরম হুমকির মুখে পড়েছে চার ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বাঁশঘাটা সেতুটি।
প্রশাসনের নাকের ডগায় বালু খেকো দের কর্মকান্ড যেন দেখেও না দেখার ভান করে আছে। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। শুধু তাই নয়, বালু উত্তোলনের কারণে জায়গায় জায়গায় ভূমি ধসের ঘটনাও ঘটছে। বর্ষা মৌসুমে ঈদগাঁও নদীর আশপাশ ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। নদী ভাঙনে চার ইউনিয়নের কয়েক শতাধিক নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে একের পর এক নদীর দুপাশে ভূমি দেবে যাওয়ার শংকা প্রকাশ করেন।
জানা যায়, ঈদগাঁও-ইসলামাবাদ নদীতে গজালিয়া, রাজঘাট,পালপাড়া,হিন্দুপাড়া ও বাঁশঘাটা ব্রিজের পাশ থেকে ড্রেজার দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে দিবারাত্রি বালু উত্তোলন করছে বালুখেকোরা। এছাড়া ভোমরিয়াঘোনা হতে পালপাড়া যাতায়াতের একমাত্র সড়কের ঈদগাঁও নদীতে অবস্থিত লাল বিজের গুড়া থেকে বালু উত্তোলন করে লোড-আনলোড করছেন শ্রমিকরা।
সূত্র মতে, ফকিরা বাজার গজালিয়া আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ৩ কিলো মিটার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বালু লোড-আনলোড করায় সাধারণ যানবাহন চলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভোমরিয়াঘোনা, পালপাড়া, বাঁশঘাটা, তেলিপাড়া, লরাবাগ, মুসলিম বাজার সীমান্তবর্তী এলাকার নদী জুড়ে বালু লুটের মহোৎসব চলছে। স্থানে স্থানে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। বালু উত্তোলনের কারণে এসব এলাকা এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে ঈদগাঁও-কবি নুরুল হুদা সড়ক ও ঈদগাঁও-ভোমরিয়া সড়কের প্রতিদিন বালু বোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। রাস্তা যেন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়ে পড়েছে।
এদিকে ২০১০ সালের বালুমহাল আইনে বলা আছে, বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এছাড়া সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। যদিও নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ তবুও ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে বালু সিন্ডিকেটের সদস্যরা। বালু উত্তোলনের ফলে ঈদগাঁও নদীর পাড় ভেঙে গ্রামের অনেক নিরীহ মানুষের জায়গা-জমি ধসে পড়েছে।
উপজেলা সহকারি ভূমি কমিশনারের মতে, ঈদগাঁও নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে এবং শ্রমিক দিয়ে বালু উত্তোলন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মতে, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.