হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :
উখিয়া পল্লী বিদ্যুতের ধারাবাহিক লোডশেডিং যন্ত্রণায় জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড তাপমাত্রায় বেকার হয়ে পড়েছে শত শত কর্মজীবি মহিলা, পুরুষ শ্রমিক। অফিস, বীমা, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান সহ অচল হয়ে পড়েছে ছোটখাট একাধিক শিল্প কারখানা। বাসা বাড়ির ফ্রিজে রক্ষিত খাদ্য পণ্য সামগ্রী নষ্ট হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য পরিবার। বিশেষ করে সিম নিবন্ধনের জন্য বেধে দেওয়া সময়সীমার ভিতরে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র সম্পাদন করতে কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানে অসংখ্য গ্রাহকদের ঝামেলা সহ্য করতে না পেরে ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানে বিদ্যুৎ নাই প্লেকার্ড ঝুলিয়ে দিতে দেখা গেছে। অসহনীয় লোডশেডিং এর নেপথ্যে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম নুর হোসেনের কারসাজি আছে দাবী করে উখিয়া নাগরিক কমিটি নেতৃবৃন্দরা অবিলম্বে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে রাজপথে আন্দোলন শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে।
উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। জাতীয় গ্রীড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ বিভিন্ন অজুহাত ও তালবাহানা করে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং করছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম নুর হোসেন কম বিদ্যুৎ খরচে অধিক রাজস্ব আদায়ের কেরামতি জাহির করে পদোন্নতি লোভে উখিয়ার ১২ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জিম্মি করে বিদ্যুৎ ভোগান্তির মতো হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবী করেছেন উখিয়া নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দরা।
উখিয়া সদরের কম্পিউটার ব্যবসায়ী ইউনুছ জানায়, সিম নিবন্ধনের কাগজপত্র ফটোকপি সহ কম্পিউটারাইজ করতে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন দোকানে ভিড় করছে। তাদের সুবিধার্থে বিদ্যুৎ নাই লেখা প্লে কার্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যেন বিরক্তিকর পরিস্থিতির মুখাপেক্ষী হতে না হয় ব্যবসায়ীদের।
পরিকল্পিত উখিয়া চাইয়ের আহবায়ক নুর মোহাম্মদ সিকদার জানান, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম নিজের আখের গোছানোর জন্য উখিয়ার আড়াই লক্ষ মানুষকে লোডশেডিং যন্ত্রণা দিচ্ছে। তিনি এ জঘন্য অপরাধ থেকে কোন দায়মুক্ত হতে পারেন না বলে সাংবাদিকদের জানান।
উখিয়া নাগরিক কমিটির আহবায়ক প্রেস ক্লাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, ধারাবাহিক লোডশেডিং এর কারণে উখিয়ার মানুষ ফুঁসে উঠেছে। তাই পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম নুর হোসেনের বিরুদ্ধে নাগরিক কমিটি কর্মসূচি দিতে বাধ্য হচ্ছে। রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী জানান, তিনি সাধারণ জনগণের স্বার্থে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে যে কোন কর্মসূচিতে সহযোগীতা করতে বাধ্য।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লোডশেডিং এর ব্যাপারে ডিজিএমকে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু তার কাছ থেকে কোন রকম সহযোগীতা পাওয়া যায়নি।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.