মিয়ানমার উপকূল ও সমুদ্র এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার মালয়েশিয়া গামী উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে থেকে বাংলাদেশী হিসেবে চিহ্নিত ১০৩ জনকে সোমবার দেশে ফেরত আনা হয়েছে। ৬ষ্ঠ দফায় এসব বাংলাদেশীদের ফেরত আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির নেতৃত্বে বাংলাদেশী প্রতিনিধি দল সোমবার সকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উভয় দেশের ঘুনধুম ঢেকবনিয়া এলাকায় মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সাথে এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সম্প্রতি সময়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে মিয়ানমার উপকূলে নৌবাহিনী ভাসমান অবস্থায় দু’দফায় ৯৩৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। পরে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ও বাংলাদেশ সীমান্তক্ষী বিজিবি’র উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দফায় দফায় পতাকা বৈঠকে এসব উদ্ধার করা বাংলাদেশী নাগরিকদের যাচাই বাছাই করে ফেরত দিতে সম্মত হন। এর আগে পঞ্চম দফায় ৭২৭ জন বাংলাদেশী নাগরিককে ফেরত দেন মিয়ানমার।
সোমবাবার সকাল সাড়ে ১০টায় মিয়ানমার সীমান্তের ঢেঁকিবনিয়া বিজিপি ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত পতাকা বৈঠকে মিয়ানমারের ২৭ সদস্য প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক ইউ সো নাইন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ২১ সদস্য প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কক্সবাজারস্থ ১৭ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর ইমরান উল্লাহ্ সরকার। সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৩ ঘন্টা ব্যাপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে উভয় দেশের সীমান্ত এলাকা নিয়ে পারস্পরিক বন্ধুত্বসূলভ মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করার জন্য একমত হন। আগামী ৮ নভেম্বর মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে কারণে বাংলাদেশের অভ্যান্তরে অপরাধীদের স্থান দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন কক্সবাজারস্থ সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল এস এম আনিছুর রহমান। পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক, মানব পাচার ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধেও বিজিবির পক্ষ থেকে জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়। পরে দুপুর ১টায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্র সেতু দিয়ে ১০৩ জন বাংলাদেশী নাগরিককে বিজিবির নিকট হস্তান্তর করা হয়।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর দেড়টার দিকে বিজিবি এবং পুলিশের উপস্থিতিতে ৪টি বাসে করে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে সহকারী পুলিশ সুপার উখিয়ার সার্কেল আব্দুল মালেক মিয়া জানিয়েছেন।
মিয়ানমার থেকে ফেরত আসা ১০৩ জন বাংলাদেশীর মধ্যে ৭২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে এর মধ্যে হবিগঞ্জ ৬জন, গাইবান্ধা ২জন, ঝিনাইদহ ৯জন, নরসিংদী ১২ জন, জয়পুর হাট ৩জন, চুয়া ডাঙ্গা ২জন, বান্দরবান ২জন, বিবাড়ীয়া ২জন, চট্টগ্রামের ৩জন, ফরিদপুর ১৪ জন, চাঁদপুর ২জন, সুনামগঞ্জ ৩জন, নারায়নগঞ্জ ৭জন, পাবনা ১জন, মাদারীপুর ৩জন, ফেনী ১জন। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি।
বর্ডার গার্ড বিজিবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারস্থ সেক্টর কমান্ডার এস.এম আনিসুর রহমান, কক্সবাজার ১৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক ইমরান উল্লাহ সরকার, কক্সবাজারস্থ সেক্টরের অতিরিক্ত পরিচালক মাহাবুব সাবের, মেজর আমিনুল ইসলাম, কক্সবাজার গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তা ছাড়াও জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। মিয়ানমারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মিউ চু, কাইতুই জা, মিশনের ডেপুটি চিফ তারেক মাহমুদ, রাহাত হোসেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.