সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / অপরাধ ও আইন / র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে স্বামীকে হত্যার পুরো ঘটনা বর্ণনা করলেন স্ত্রী স্নিগ্ধা

র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে স্বামীকে হত্যার পুরো ঘটনা বর্ণনা করলেন স্ত্রী স্নিগ্ধা

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পিপি ও আওয়ামী লীগ নেতা রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনার লাশ উদ্ধার করেছে র‌্যাব। বুধবার রাত সোয়া ১টার দিকে রংপুর নগরীর মোল্লাপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ির মেঝে থেকে তার গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ বলছে, স্ত্রীর পরকীয়ার কারণেই খুন করা হয় পিপি রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে। তার লাশটি যেখান থেকে উদ্ধার করা হয় সেটি তার স্ত্রীর প্রেমিকের ভাইয়ের নির্মাণাধীন বাড়ি।

এর আগে মঙ্গলবার দিনভর রংপুর শহরের বাড়ির পাশের ডোবায় তল্লাশি চালায় র‍্যাব।এ সময় পুলিশ-র‌্যাবের বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ডোবায় তল্লাশি চালানোর সময় সেখানে একটি রক্তমাখা শার্ট পাওয়া যায়। নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর রক্তমাখা শার্ট উদ্ধার নিয়ে তদন্তের মোড় নেয়।

পরে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে স্নিগ্ধা রাণী ভৌমিককে তাদের নগরীর বাবুপাড়ার বাসা থেকে আটক করা হয়। এর আগে তার সহকর্মী কামরুলসহ আরও দুই কিশোরকে আটক করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে স্নিগ্ধা রাণী জানান, তার স্বামীর লাশ তাজহাট মোল্লাপাড়া মহল্লার তার প্রেমিক কামরুল ইসলামের বড় ভাই খাদেমুল ইসলামের নির্মাণাধীন বাসায় আছে। পরে স্নিগ্ধা রাণী ভৌমিক ও কামরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে বস্তার মধ্যে বালুর ভেতরে লুকিয়ে রাখা লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে নিহতের ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক ও ভগ্নিপতি অধ্যাপক ডা. অনিমেষ মজুমদার ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।

এদিকে খুনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত স্নিগ্ধা ও আটক দুই কিশোর র‍্যাব ১৩-এর হেফাজতে আছেন। আর স্নিগ্ধার প্রেমিক কামরুল মাস্টার পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

এ সময় র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে স্বামীকে হত্যার পুরো ঘটনা বর্ণনা করেছেন স্নিগ্ধা। তিনি জানান, দীর্ঘ দুই মাস ধরে আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি ও তার প্রেমিক কামরুল মাস্টার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আগে থেকেই তাজহাট মোল্লাপাড়ার দুই কিশোরের সহযোগিতায় ২৮ মার্চ একটি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে গর্ত করে রাখেন তারা। পর দিন রথীশ চন্দ্রের খাবারের সঙ্গে কৌশলে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ান তারা। এর পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে স্নিগ্ধা ও কামরুল হত্যা করেন রথীশ চন্দ্রকে।

স্নিগ্ধা আরও জানান, হত্যার পর লাশ বাড়ির আলমারিতে ঢুকিয়ে রাখেন তারা। এর পর আলমারি পরিবর্তনের কথা বলে তা নিয়ে যাওয়া হয় বাড়ির অদূরে তাজহাট মোল্লাপাড়ার সেই নির্মাণাধীন ভবনে, যেখানে আগে থেকেই গর্ত করে রাখা হয়েছিল। পরে সেই গর্তেই লাশ পুঁতে ফেলেন তারা।

পুলিশ জানায়, পরিবারের দাবি অনুযায়ী গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টায় বাসা থেকে বের হন নিহত আইনজীবী রথিশ চন্দ্র বাবু সোনা। কিন্তু পুলিশের ধারণা বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটা থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। কারণ বৃহস্পতিবার রাত দশটা ২২ মিনিটে সর্বশেষ তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলেন। তখন তার অবস্থান ছিল স্টেশন এলাকায়। সেই থেকে তার ফোন বন্ধ ছিল। কিন্তু রথিশের স্ত্রীর পুলিশ-র‌্যাবকে জানায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার একটি মোটর সাইকেলে চেপে চলে যান। আসলে রতিশ চন্দ্র নিখোঁজ ছিলেন বৃহস্পতিবার রাত থেকেই। তাকেই ওই রাতেই হত্যা করে একটি বাড়ির মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।

জানা গেছে, ক্লুবিহীন এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে চরম অন্ধকারে পড়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাঁচ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গি-জামায়াত, জমিজমা বিরোধ, ব্যক্তিগত এবং হিন্দু ট্রাস্ট নিয়ে কাজ শুরু করেন তারা। উদ্ধার না হওয়ায় নানা কর্মসূচিতে উত্তাল হয়ে উঠে রংপুর।

এদিকে, দফায় দফায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এবং রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক রথিশের বাড়িতে যান। সেখানেই তাদের প্রাথমিক সন্দেহ হয়।

জানা গেছে, পুলিশ কয়েক দফায় রথিশের স্ত্রী সন্তানের সঙ্গে কথার বলার সময় অনেকটা স্বাভাবিক ছিলেন। নিখোঁজের বিষয়টিতে তারা খুব একটা আমলে নেননি।

এদিকে র‌্যাব ও পুলিশের একটি সুত্র জানায়, পরে তারা পরকীয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে তদন্তে নামেন। এরপর পুলিশ বাবু সোনার স্ত্রী তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা স্নিগ্ধা ভৌমিক ও তার প্রেমিক একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলামের মোবাইল ফোনের কললিস্ট বের করে। কললিস্ট দেখে আঁতকে উঠেন পুলিশ। প্রতিদিন প্রেমিক-প্রেমিকা জুটি ৩০ থেকে ৩৫ বার মোবাইলে কথা বলতেন। ওই কললিস্ট দেখে সন্দেহ হলে শনিবার রাতে নগরীর রাধাবল্লভের বাড়ি থেকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয় কামরুল ইসলামকে। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এরপর হত্যাকাণ্ডের তথ্য জানায় কামরুল।

মঙ্গলবার রাতে র‌্যাব বাবু পাড়ার বাড়ি থেকে স্নিগ্ধা ভৌমিককে গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া তথ্য পেয়ে র‌্যাব মঙ্গলবার রাতে সোয়া একটার দিকে বাবু সোনার বাবুপাড়ার বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মোল্লাপাড়ায় খাদেমুল ইসলাম জাফরীর নির্মাণাধীন বাড়ির মেঝে থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

সূত্র:somoyerkonthosor.com-ডেস্ক।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.