
ছবি: এএফপি
অসাধারণ, দূর্বার, দুরন্ত, অবিস্মরণীয়!
বিশেষণ খুঁজতে গিয়ে দিশেহারা অবস্থা। কিছুতেই যেন এই ম্যাচ জয়ের ভাব প্রকাশ হয় না। শততম টেস্টে উড়লো বাংলাদেশের বিজয় কেতন। ১৪০ বছরের টেস্ট ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ দল হিসেবে শততম টেস্ট জয়ের দৃষ্টান্ত দেখালো বাংলাদেশ। সাদা পোশাকের উৎসব শোভা পেলো রঙিন মলাটে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাওয়া বাংলাদেশের চার উইকেটের জয়টি যেন শুধুই একটি জয় নয়। এটা ইতিহাস গড়ার জয়। এ জয় উৎসবের উপলক্ষ, এ জয় ১৬ কোটি মানুষের ক্রিকেট পাগল এক জাতির আনন্দ উদযাপন উন্মাদনায় রুপ দেয়ার এক শক্তি। মাইলফলকের ম্যাচে এটারও জানান দেয়া, টেস্ট ক্রিকেট খেলতে শিখে গেছে বাংলাদেশ। থাক না সেখানে পাওয়ার ক্রিকেটের আধিপত্য!
বাংলাদেশের গড়া ইতিহাসের সাক্ষী লঙ্কান ১১ জন ক্রিকেটার। সাক্ষী কলম্বোর পি সারা ওভাল স্টেডিয়ামও। নায়ক তামিম ইকবাল। তামিমের ডেপুটি হয়ে ব্যাট চালালেন সাব্বির রহমান। ১৯১ রানের লক্ষ্য পেরোতে বাংলাদেশের খরচা ছয় উইকেট। শুধু শততম টেস্ট জয়ই নয়, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও সাদা পোশাকে প্রথম জয়ের স্বাদ নিলো বাংলাদেশ।
শেষটাও করে আসতে পারতেন তামিম-সাব্বির। ততক্ষণে ১০৯ রানের জুটি গেড়ে ফেলেছেন এই দুই ব্যাটসম্যান। জয়ের পথটাও তখন খুব কাছে। এমন সময় যেন খেই-ই হারিয়ে বসলেন তামিম। ৮২ রানে ব্যাট করতে থাকা তামিম হাঁকাতে গেলেন ছয়। কিন্তু বল গিয়ে পড়লো দিলরুয়ান পেরেরার হাতে। এরপর ৪১ রান করে সাব্বিরও থামেন।
ইতিহাস গড়ার পথে আর ঝুঁকি নেননি সাকিব আল হাসান ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তাতেও রক্ষা পাননি আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা সাকিব। অফ স্টাম্পের বল কাট করতে গিয়ে নিজের স্টাম্পই ভেঙে ফেলেন বাঁ-হাতি এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। থামতে হয় ১৫ রান করেই। বাংলাদেশের দরকার তখন ২৯ রান। পথটা কাছের হলেও সঙ্কটেই পড়ে যায় পাঁচ উইকেট হারানো বাংলাদেশ।
গুরুদায়িত্ব ওঠে অধিনায়কের মুশফিকের কাঁধে। সাথে পান অভিষিক্ত মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। মাঝে একবার আকাশ থেকেই পড়েছিলেন শেষপর্যন্ত ২০ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিক। সান্দাকানের একটি বেশ বাইরের ডেলিভারি পা দিয়ে ফেরান তিনি।
লঙ্কানদের আবেদনে সাড়া দিয়ে মুশফিককে আউট ঘোষণা দেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে বাংলাদেশ অধিনায়ক। মুশফিক টিকলেও ১৩ রান করে বিদায় নেন মোসাদ্দেক। তখন মাত্র দুই রান দরকার বাংলাদেশের। উইকেটে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সময় না নিয়ে দুই রান নিয়ে বাংলাদেশকে এনে দেন ঐতিহাসিক এক জয়।
উৎসবের অপেক্ষার শুরু শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসের মাঝপথ থেকেই। সেঞ্চুরি করা দিমুথ করুনারত্নেকে ফিরিয়ে লঙ্কান শিবিরে ভাঙন ধরান বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দ্রুত উইকেট হারাতে থাকা শ্রীলঙ্কা ২০০ পেরোতেই হারায় সাত উইকেট। কিন্তু বাধার দেয়াল তুলে দাঁড়ান দিলরুয়ান পেরেরা ও সুরঙ্গ লাকমল।
নবম উইকেট জুটিতে ৮০ রানের জুটি গড়েন পেরেরা-লাকমল। এই জুটিতেই লড়াইয়ের পুঁজি পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। পেরেরা ৫০ ও লাকমল ৪২ রান করে লঙ্কানদের ১৯০ রানের সংগ্রহ এনে দেন। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপের সামনে এই রান যথেষ্ট হয়নি। যদিও ১৯০ রান তুলতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে মুশফিকবাহিনীকে। তবে শেষ হাসিটা উঠেছে মুশফিক-সাকিবদের মুখেই।
বাংলাদেশের আগে টেস্ট খেলা বাকি নয় দলই তাদের শততম টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। যেখানে মাত্র তিনটি দল নিজেদের ঐতিহাসিক ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে পেরেছে। ক্রিকেটের জনক দেশ ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে সব দলই নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচ হেরেছে। নিউজিল্যান্ড করেছিলো ড্র।
ব্যতিক্রমের তালিকায় কেবল অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিজেদের শততম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এক ইনিংস ও ৪৫ রানে হারিয়েছিলো অস্ট্রেলিয়া। শততম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলো পাকিস্তান। মোশতাক মোহাম্মদের নেতৃত্বে ৭১ রানে জিতেছিলো পাকিস্তান। এরআগে প্রথম দল হিসেবে ১৯৬৫ সালে শততম টেস্ট জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় দল হিসেবে শততম টেস্ট ম্যাচটি রঙিন মলাটে বাধিয়ে রাখলো টেস্ট ক্রিকেটে ১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা: ৩৩৮ ও ৩১৯/১০ (করুনারত্নে ১২৬, পেরেরা ৫০, লাকমল ৪২; সাকিব ৪/৭৪, মুস্তাফিজ ৩/৭৮)। বাংলাদেশ ৪৬৭ ও ১৯১/৬ (তামিম ৮২, সাব্বির ৪১, মুশফিক ২২, মোসাদ্দেক ১৩; পেরেরা ৩/৫৯, হেরাথ ৩/৭৫)।
ফল: বাংলাদেশ চার উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: তামিম ইকবাল
সিরিজসেরা: সাকিব আল হাসান
সূত্র:শান্ত মাহমুদ/priyo.com,ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.