সাধারণত কালোজিরা নামে পরিচিত হলেও কালোজিরার আরো কিছু নাম আছে, যেমন- কালো কেওড়া, রোমান করিয়েন্ডার বা রোমান ধনে, নিজেলা, ফিনেল ফ্লাওয়ার, হাব্বাটুসউডা ও কালঞ্জি ইত্যাদি। কালোজিরার বৈজ্ঞানিক নাম nigella sativa। যে নামেই ডাকা হোকনা কেন এই কালো বীজের স্বাস্থ্য উপকারিতা অপরিসীম। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিধন থেকে শুরু করে শরীরের কোষ ও কলার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কালোজিরা। শুধুমাত্র স্বাস্থ্যের জন্যই না কালোজিরা চুল ও ত্বকের জন্যও অনেক উপকারি। প্রত্যেকের রান্নাঘরেই কালোজিরা থাকে যা খাবারকে সুবাসিত করে। আসুন আমরা আজ আশ্চর্য বীজ কালোজিরার উপকারিতা গুলো জেনে নেই।
১। চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে
কালোজিরার তেল চুলের কোষ ও ফলিকলকে চাঙ্গা করে ও শক্তিশালী করে যার ফলে নতুন চুল সৃষ্টি হয়। এছাড়াও কালোজিরার তেল চুলের গোড়া শক্ত করে ও চুল পড়া কমায়।
২। ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে
ত্বকের গঠনের উন্নতি ও ত্বকের প্রভা বৃদ্ধির জন্য কালোজিরা অত্যাবশ্যকীয়। এতে লিনোলেইক ও লিনোলেনিক নামের এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড থাকে যা পরিবেশের প্রখরতা, স্ট্রেস ইত্যাদি থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করে এবং ত্বককে সুন্দর করে ও ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।
– মধু ও কালোজিরার পেস্ট বানিয়ে ত্বকে লাগিয়ে আধাঘন্টা বা একঘন্টা রাখে ধুয়ে ফেলুন, এতে ত্বক উজ্জ্বল হবে।
– যদি আপনার ব্রণের সমস্যা থাকে তাহলে আপেল সাইডার ভিনেগারের সাথে কালোজিরা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। নিয়মিত লাগালে ব্রণ দূর হবে।
– শুষ্ক ত্বকের জন্য কালোজিরার গুঁড়া ও কালোজিরার তেলের সাথে তিলের তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগান। এক সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখতে পাবেন।
৩। ব্লাড প্রেশার কমায়
এক গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, কালোজিরা খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে পারে এবং রক্তচাপ কমিয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় রাখতে পারে।
৪। শ্বাসপ্রশ্বাস এর সমস্যা কমায়
আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে যে সর্দি, কাশি ও জ্বর হয় সেসবের যন্ত্রণাকর উপসর্গের তীব্রতা কমাতে পারে কালোজিরা।
৫। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
Medical Science Monitor journal এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায় যে, নিয়মিত কালোজিরা খেলে মৃগীরোগ আছে এমন শিশুদের হৃদপিণ্ডের অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। কালোজিরায় খিঁচুনি বন্ধ করার উপাদান থাকে।
৬। টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিরাময় করে
গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, প্রতিদিন ২ গ্রাম কালোজিরা খেলে রক্তের সুগার লেভেল কমায়, ইনসুলিনের বাধা দূর করে এবং অগ্নাশয়ে বিটা কোষের কাজ বৃদ্ধি করে।
৭। পারকিনসন্স রোগের প্রতিকারে
কালোজিরায় থাইমোকুইনিন থাকে যা পারকিনসন্স ও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তদের দেহে উত্পন্ন টক্সিনের প্রভাব থেকে নিউরনের সুরক্ষায় কাজ করে।
এছাড়াও হাইপারটেনশন, স্ট্রোক, স্থূলতা, অ্যাজমা, ক্যান্সার, গলাব্যাথা ইত্যাদির নিরাময়ে কাজ করে কালোজিরা। নিয়মিত কালোজিরা খেলে অপারেশনের দাগ দূর করে, ব্রেইন টনিক হিসেবে কাজ করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের অভ্যন্তরের ও বাহিরের অংশের জন্য উপকারি। সুতরাং সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত কালোজিরা খান।
সূত্র: সাবেরা খাতুন/দেশেবিদেশেডটকম,ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.