
অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী হিসেবে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো একজন নারীর নাম ঘোষণা হলো। আর সেই পুরস্কার তিনি যাদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন তাদের একজন আবার অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী দ্বিতীয় বাঙালি।
ফরাসি বংশোদ্ভূত এস্থার ডুফলো এবং তার ভারতীয় বাঙালি স্বামী অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জির সঙ্গে এবারের সভেরিজেস রিক্সব্যাঙ্ক পুরস্কার (আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতির উদ্দেশে প্রবর্তিত অর্থনীতির সম্মাননা) ভাগ করে নেবেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ মাইকেল ক্রেমার।
৪৫ বছরের এস্থার ডুফলো সবচেয়ে কম বয়সী নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। তার আগে ২০০৯ সালে প্রথম নারী হিসেবে অর্থনীতির নোবেল পেয়েছিলেন এলিনর ওসট্রম।
১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে অর্থনীতিতে পিএইডি করছিলেন এস্থার। সে সময় তাঁর জয়েন্ট সুপারভাইজার ছিলেন অভিজিৎ। ২০১৫-তে অভিজিৎকে বিয়ে করেন এস্থার ডুফলো। তাঁদের একমাত্র সন্তানের জন্ম হয়েছিল ২০১২-তে।
তবে তাঁরাই প্রথম নন, এর আগেও আরো কয়েক দম্পতি একই বছর একসাথে একই বিষয়ে নোবেল পেয়েছেন।
২০১৪ সালে জন ও’কিফের সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন নরওয়ের মে-ব্রিট মোজেস ও এডওয়ার্ড মোজেসও। মোজেস দম্পতির এমন কাণ্ডে যারপরনাই আনন্দে ভেসেছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ফুটবলপাগল ওই ছোট্ট দেশটি। একসঙ্গে নোবেল পাওয়া নরওয়ের এই দম্পতি কিন্তু পড়াশোনাও করেছেন একই হাইস্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে সহপাঠী হলেও মে-ব্রিটের সঙ্গে হাইস্কুল তেমন একটা ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠেনি এডওয়ার্ডের। বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে পড়াশোনার সময় থেকে তাঁদের সম্পর্কের শুরু।
১৯০৩ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেয়েছিলেন তিন জন। মেরি কুরি ও পিয়ের কুরি এবং আতোয়াঁ অরি বেকারেল। সে বছর একটা রেকর্ডও গড়েছিলেন মেরি কুরি। তিনিই প্রথম মহিলা সে বছর নোবেল পান। পোল্যান্ডের জন্মানো মারির ফরাসি স্বামীর মৃত্যু হয়েছিল সড়ক দুর্ঘটনায়, ১৯০৬ সালে। সে ঘটনায় ভেঙে পড়লেও গবেষণা থামাননি মেরি। ১৯১১-তে আবারো নোবেল পান তিনি। এবার রসায়নে। এখনও পর্যন্ত মেরি কুরিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি দু’বার নোবেল পেয়েছেন। এবং তা-ও আবার দু’টি ভিন্ন বিভাগে।
মা-বাবার মতোই একই পথের পথিক ছিলেন মেরি ও পিয়ের কুরির কন্যা আইরিন জোলিয়ো কুরি। স্বামী ফ্রেদেরিক জলিয়ো-র সঙ্গে মিলে তিনি রসায়নবিদ্যায় নোবেল পেয়েছিলেন ১৯৩৫-এ। আর্টিফিসিয়াল রেডিয়োঅ্যাক্টিভিটিতে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য নোবেল পদক পেয়েছিলেন কুরি দম্পতি। আইরিন জোলিয়ো কুরি তাঁর মায়ের সহকারী হিসাবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন প্যারিসের র্যাডিয়াম ইনস্টিটিউটে। পরমাণুর গঠন নিয়ে এই দম্পতির গবেষণা ভবিষ্যতে নিউট্রনের আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
১৯৪৭-এ বার্নাদো আলবার্তো হোসের সঙ্গে মিলিত ভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন কার্ল কোরি ও গার্টি গোরি। কার্ল ও গার্টি- দু’জনেই প্রাগের জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই কার্লের সঙ্গে প্রথম দেখা গার্টির। এবং প্রথম দেখাতেই প্রেম। এর পর একসঙ্গে মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা। স্নাতক হওয়ার পর বিয়ে করেন তাঁরা। পরে আমেরিকায় পাড়ি দেন গোরি দম্পতি। সেই থেকেই মার্কিন নাগরিক।
সুইডেনের দম্পতি আলভা মিরডাল ও গানার মিরডাল, দু’জনেই সে দেশের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য ছিলেন। ১৯৭৪-এ অস্ট্রিয়ার ফ্রেদেরিক অগাস্ট ভন হায়েকের সঙ্গে যৌথ ভাবে অর্থনীতিতে নোবেল পান গানার মিরডাল। এর আট বছর পর মেক্সিকোর আলফন্সো গার্সিয়া রোবেলসের সঙ্গে শান্তির নোবেল পান আলভা।
সূত্র: somoynews.tv -ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.