গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :
সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের চিহ্নিত ইয়াবা কারবারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। কারন তারা ইয়াবা পাচার অব্যাহত রাখার জন্য বিভিন্ন প্রকার বৈধ ব্যবসা হাতে নিয়েছে এবং সেই বৈধ ব্যবসার আড়ালে ভিন্ন-ভিন্ন কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা বাণিজ্য। তারা প্রশাসনের সদস্যদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এই কৌশল হাতে নিয়েছে। বর্তমানে টেকনাফ সীমান্ত উপকূলীয় এলাকার বেশীর ভাহ যুবসমাজ ইয়াবা পাচারে লিপ্ত হচ্ছে। চলছে রাতারাতি কোটি পতি হওয়ার প্রতিযোগিতা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা নিত্য নতুন কৌশলম্বন করে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ ইয়াবা পাচার।
গোপন সংবাদের তথ্য সুত্রে দেখা যায় এক শ্রেনীর অর্থলোভী ব্যবসায়ী অনেক বৈধ ব্যবসার আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা কারবার। এদিকে প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ইয়াবার বড় বড় চালান আটক হলেও পাচার কারী আটকের সংখ্যা খুবই নগন্য। যা রীতিমত সাধারন মানুষের মাঝে আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অনেক বলছেন মানুষ কত টাকার মলিক হলে কোটি কোটি টাকার মালামাল ফেলে পালিয়ে যেতে পারে।
তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা যায়, ইদানিং নাফনদী ও সরকারী রাজস্ব প্রদানকারী বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের আওতাভূক্ত টেকনাফ স্থল বন্দর সংলগ্ন এলাকায় ট্রলারে হতে ইয়াবা আটকের ঘটনায় পুরো টেকনাফে চলছে তোলপাড়। সংরক্ষিত এলাকা ও তদারকির অভাবে এই পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের চালান খালাস এবং পাচারের ঘটনা ঘটলেও বন্দর কর্তৃপক্ষের কঠোর ভূমিকা না থাকায় বেধ ব্যবসার আড়ালে মাদক পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে।
গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, বৈধ ব্যবসার আড়ালে কতিপয় রাঘব-বোয়াল দীর্ঘদিন ধরে এই অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগ কারী সংস্থার নজর দারী বৃদ্ধি হলে এসব অবৈধ কারবারীরা আইনের আয়তাই চলে আসবে বলে এমন আশাবাদী সচেতন মহলের।
সেই ধারাবাহিকতার সূত্র ধরে টেকনাফ ২ বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা পৃথক অভিযান চালিয়ে ফের উদ্ধার করল ইয়াবার সর্ববৃহৎ চালান। বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্ত স্থল বন্দর সংলগ্ন ও সেন্টমার্টিনের ছেড়াদ্বীপ এলাকায় পৃথক অভিযানে এসব ইয়াবার চালান উদ্ধার করতে সক্ষম হয় ।
শুক্রবার (১৬ মার্চ) শেষ রাতের দিকে টেকনাফের দমদমিয়া চেকপোস্ট, সাবরাং ও সেন্টমার্টিন ছেড়াদ্বীপ এলাকা থেকে পৃথক অভিযান চালিয়ে ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়।
টেকনাফ ২বিজিবি‘র অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আছাদুদ জামান চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের বিশ্বস্থ গোয়েন্দা সূত্রে ইয়াবা একটি বড় চালান নাফনদী হয়ে প্রবেশ করবে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে আমরা ২টি দলে বিভক্ত হয়ে যায়, এরপর দমদমিয়া বিওপির দায়িত্বরত এলাকায় এবং টেকনাফ বিওপির হাবিলদার মোঃ আশলাফুল আলমের নেতৃত্বে সাবরাং ঝিনা খালের মুখে টহল দিতে থাকে। এসময় দমদমিয় বিওপি সংলগ্ন বন্দর এলাকা হতে ৫ লাখ ৮৯৭ নব্বইও সাবরাং ঝিনাখালের মূখ হতে ১৩ লাখ ২৮৯৭পিছ ইয়াবা জব্দ করে আমাদের সদস্যরা। তবে এসময় কোন পাচারকারীকে আটক করতে পারেনি। মোট ১৮ লাখ ২৮৯৭হাজার পিস ট্যাবলেট যার আনুমালিক মূল্য ৫৪ কোটি ৮ লক্ষ ৬৯ হাজার ১শ টাকা।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় দমদমিয়া বিওপি সংলগ্ন চেকপোস্ট এলাকা হতে ৫০পিস ইয়াবাসহ মায়ানমারের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তি হচ্ছে আকিয়াবা জেলার মংডু থানার নিয়ারবিলের বুজুর মিয়ার পুত্র শেখ আহমদ (২৫)।
তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা প্রদান করা হয় উদ্ধারকৃত ইয়াবা গুলো ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে। যা পরবর্তীতে উদর্দ্ধতন কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে এবং এটি চলিত বছরের সর্ববৃহৎ ইয়াবার চালান বলে ও জানান।
অন্যদিকে শুক্রবার ভোরে সেন্টমার্টিন ছেড়াদ্বীপ থেকে ৩ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে কোস্টগার্ড সদস্যরা।
কোস্টগার্ড টেকনাফের ইনচার্জ ফয়জুল ইসলাম মন্ডল সত্যতা নিশ্চিত করে জানান সেন্টমার্টিন ছেড়াদ্বীপে একদল পাচারকারী নৌপথে ইয়াবা পাচারের জন্য অপেক্ষা করছিলো এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযানে যায় কোস্টগার্ডের সদস্যরা। ওই সময় কোস্টগাডের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা একটি বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে উদ্ধার করা ইয়াবা গুলো গননা করে সেখানে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লক্ষ ইয়াবা পাওয়া যায়।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.