ডিসেম্বরে প্রথম দফায় হতে যাচ্ছে ২৪৫টি পৌরসভা নির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশের ন্যায় সরগম হয়ে উঠেছে লামা পৌর এলাকা। চায়ের দোকান, রাজনৈতিক অফিস, মাঠে ময়দানে, প্রার্থীদের নিজস্ব অফিস সহ সর্বত্র এখন আলোচনার বিষয়বস্তু পৌরসভা নির্বাচন। কোন দল থেকে কে হতে যাচ্ছে মেয়র বা কমিশনার প্রার্থী?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দেশে প্রথম ধাপে পৌরসভার ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্রে জানা যায়, প্রথম ধাপে পৌরসভার নির্বাচনী তালিকায় লামা পৌরসভাও রয়েছে। এর ফলে স্ব-স্ব এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে গড়ে উঠেছে চমৎকার সেতুবন্ধন।
লামা পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থী কে হবে? এমন প্রশ্নের জবাব মিলছে না কোথাও। দলের সিনিয়র নেতাদের কাছেও নেই তার উত্তর। অপরদিকে বিএনপি’র দলীয় একক প্রার্থী হচ্ছে বর্তমান মেয়র ও উপজেলা বিএনপি সভাপতি আমির হোসেন। ধানের শীষ প্রতীকের একক প্রার্থী হওয়ায় বর্তমান মেয়র আমির হোসেন খালি মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন।
অপরদিকে সরকার দলীয় প্রার্থী ঘোষণার বিষয়টি এখনো রহস্যের চাদরে ঢাকা রয়েছে।
সরকার দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিন জনের নাম ভোটারদের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। এদের মাঝে রয়েছেন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র তাজুল ইসলাম, লামা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিআরডিবি চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল এবং বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। উক্ত তিনজনের সাথে কথা বললে তারা নিজেদের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে দাবি করেন।
সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে তাজুল ইসলামের বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে ভোটাদের আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়।
প্রার্থী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা কর্মীরা বলেন, যে সব প্রার্থীরা কোন না কোন সরকারী পদে আছেন বা স্থানীয় সরকারের অধিন্যস্ত কোন জনগুরুত্বপূর্ণ পদ বহন করছেন তাদের স্ব-স্ব পদে বহাল রেখে অন্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করার পক্ষে মত দেন। বিগত পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনা করলে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ অনেকটা বিএনপি’র অনুকূলে। বিগত সময়ে স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেয়ার ব্যাপারে অনেকে মত প্রকাশ করেন।
সকল শ্রেণীর ভোটারদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বর্তমান পৌর মেয়র আমির হোসেন বিএনপি’র হেবিওয়েট প্রার্থী।
লামা উপজেলায় বর্তমানে আওয়ামী লীগ থেকে উপজেলা সভাপতি, লামা পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা মেয়র ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল ও বিএনপি থেকে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও বর্তমান মেয়র আমির হোসেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে।
আওয়ামী লীগের দলীয় বিজয় সুনিশ্চিত করতে আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল-এর কোন বিকল্প নেই।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, দল মনোনীত প্রার্থীর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মেয়র পদে ৪শত ও কাউন্সিলর পদে ৫০ জনের ভোটারের সমর্থনযুক্ত তালিকা দিতে হবে। দল মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য প্রতি পৌরসভায় (মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী) প্রার্থী দিলে এক লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে পারবে না নিবন্ধিত দল। তাছাড়া কোনো দল ২০ হাজার টাকার বেশি চেক নিতে পারবে না। তাছাড়া দল বিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে পৌরসভা নির্বাচন অধ্যাদেশ আইন ২০১৫ অনুমোদন করেছে সরকার।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.