
মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :
‘রস’ থেকে ‘রাস’। রস অর্থ নির্যাস, আনন্দ, হ্লাদ, অমৃত ও ব্রক্ষকে বোঝায়। ‘তৈত্তিরীয়’ উপনিষদে রস সম্পর্কে বলা হয়েছে “রসো বৈ স:। অর্থাৎ ‘ব্রক্ষ’ রস ছাড়া আর কিছুই নয়। পুরুষত্তোম শ্রীকৃষ্ণ হলেন রসের ঘণীভুত আধার। তাকে ঘিরেই রাস। প্রতি বছর শারদ পূর্ণিমা তিথীতে বৃন্দাবনের যমুনার তটে শ্রীকৃষ্ণ গোপিনীদের সাথে অহং বর্জিত রস আস্বাদন করেন। তাই বৈষ্ণব তথা সনাতন সম্প্রদায়ের কাছে রাস উৎসব ভগবানের এক অভুতপূর্ব মিলন মেলা। প্রতি বছর শারদ পূর্ণিমা তিথীতে স্বাড়ম্বরপূর্ণভাবে বিশ্বব্যাপী রাস উৎসব করে আসছে বৈষ্ণব তথা সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজনরা।
এরই ধারবাহিকতায় রাস পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং ধর পাড়ার হরি মন্দির প্রাঙ্গনে রাস মহোৎসব উদযাপনের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে পাঁচদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে।
৯ নভেম্বর শনিবার সকালে শ্রীমদ্ভগবদ গীতা পাঠের মাধ্যমে শুরু হবে পাঁচদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের। এতে থাকছে গীতা পাঠ, গীতাপাঠ প্রতিযোগীতা, বস্ত্র বিতরণ, অতিথি সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্টান, প্রতিমা প্রদর্শনী, ধর্মসভা ও ষোড়শপ্রহর ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও মেলা। বুধবার ভোরে পূর্ণাহুতি ও বৈষ্ণব বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিন ব্যাপী রাস মহোৎসব ও মেলা।
হারবাং ধর পাড়া রাস মহোৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মৃনাল ধর বলেন, চকরিয়ার পল্লী গ্রাম হারবাং ধর পাড়ায় রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে গত ৪৯ বছর ধরে ব্যপাক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রাস মহোৎসব উদযাপন করে আসছি। এভচর এই রাস মহোৎসব উদযাপনের সুবর্ণ জয়ন্তী। তাই এবছর পাঁচদিন ব্যাপী নানা অনুষ্টানে আয়োজন করা হয়েছে। ৯ নভেম্বর শনিবার সকালে পবিত্র গীতাপাঠের মাধ্যমে শুরু হবে রাস মহোৎসব।
হারবাং রাস মহোৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি শচীন্দ্র কুমার ধর বলেন, এবারের অনুষ্ঠানের ধর্মসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম।
এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহ্জা ফজলুল করিম সাঈদী, পৌরসভার মেয়র মো.আলমগীর চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান। ধর্মসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারত থেকে আগত শ্রীমৎ স্বামী নির্বাণানন্দ সরস্বতী মহারাজ্জী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অমল চক্রবর্তী এবং মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন করবেন কক্সবাজার জুয়েলারী সমিতির সভাপতি সুভাষ ধর।
অনুষ্টানে সার্বিক সহযোগীতায় থাকবেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, চকরিয়া উপজেলা শাখা, চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও চকরিয়া উপজেলা হিন্দু মহাজোট।
সোমবার ভোর থেকে শুরু হবে মহানামযজ্ঞ। এতে নামসুধা পরিবেশন করবেন সোনার গৌড় সম্প্রদায় (সাতক্ষীরা), দেবব্রত সম্প্রদায় (ভোলা), ব্রজশ্বরী সম্প্রদায় (গোপালগঞ্জ), গীত গোবিন্দ সম্প্রদায় (সাতক্ষীরা) ও দয়ালকৃষ্ণ সম্প্রদায় (চট্টগ্রাম)।
হারবাং কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরি মন্দির উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিলাস ধর বলেন, প্রতি বছরের শারদ পূর্ণিমা তিথীতে চকরিয়ার হারবাং ধর পাড়ায় রাস উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে আসছে। এটি এখন ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে রুপ নিয়েছে। এই রাস পূর্ণিমাকে ঘিরে এ এলাকায় বসে অসম্প্রদায়িক মিলন মেলা। সকল সম্প্রদায়ের মানুষ এতে অংশ নেন। এবার রাস মহোৎসবের সুবর্ণ জয়ন্তী পালিত হবে।
তিনি শনিবার থেকে শুরু হওয়া অনুষ্টানের প্রতিটি পর্বে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে সাফাল্যমন্ডিত করার আহবান জানিয়েছেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.