
মরক্কোর জালে বল পাঠিয়ে রোনালদোর উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত
এক গোলে দুই রেকর্ড। ছাড়িয়ে গেছেন হাঙ্গেরিয়ান কিংবদন্তি পুসকাসকে, ছুঁয়ে ফেলেছেন আর্জেন্টাইন ‘ফুটবল ঈশ্বর’ ম্যারাডোনাকে। সঙ্গে দলের মুখে হাসি। এক ম্যাচে এর চেয়ে বেশি আর কি-ই বা আশা করতে পারেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো? রাশিয়া বিশ্বকাপ যেন কেবল তার পায়ের জাদু দেখার অপেক্ষাতেই। মাঠে নামলেই নতুন গল্প লিখছেন পর্তুগাল অধিনায়ক। যেন রূপকথার নায়ক হয়ে উঠেছেন পাঁচবারের ফিফা বর্ষসেরা এই ফুটবলার।
স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দলকে বাঁচানো রোনালদো বুধবার মরক্কোর বিপক্ষেও থাকলেন ত্রাতার ভূমিকায়। লুঝনিকি স্টেডিয়ামে তার করা একমাত্র গোলেই মরক্কোকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে পর্তুগাল। এই জয়ে নক আউট পর্বের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল রোনালদোর পর্তুগাল। অন্যদিকে টানা দুই হারে বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল মরক্কোর।
তবে প্রতিপক্ষ যে রোনালদোর পর্তুগাল, সেটা হয়তো মাথায় নেয়নি আগের ম্যাচে আত্মঘাতী গোলে হার মানা মরক্কো। রেফারির বাঁশি বাজতেই বল নিয়ে সোজা পর্তুগালের ডি বক্সে হানা দেয় তারা। চাপ কমাতেই হয়তো এই পথে হেঁটেছে দলটি। তবে শুরুর এই আক্রমণে তারা সফল হতে পারেনি। তিন মিনিট পর উল্টো গোল হজম করে নিতে হয় তাদের।
আগের ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা পর্তুগালের প্রাণভোমরা রোনালদো এদিনও চেনা চেহারায়। মরক্কোর বিপক্ষে শুরুর গল্পটা তিনিই লিখেছেন। চার মিনিটে কর্নার কিক পায় পর্তুগাল। জোয়াও মোতিনহোর নেওয়া কর্নার কিক খুঁজে পায় ডি বক্সে দাঁড়ানো রোনালেদোকে। বল মরক্কোর জালে জড়িয়ে দিতে দেরি করেননি ফুটবলের এই জাদুকর।
চার মিনিটেই গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন এই ‘গোল মেশিন’। রাশিয়া বিশ্বকাপে চতুর্থ গোল করা রোনালদো দলকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিজেও এগিয়ে গেছেন অনেকটা পথ। নিজেকে তুলেছেন অনন্য এক উচ্চতায়।
মরক্কোর বিপক্ষে দেওয়া গোলের সুবাদে ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটি দখল করে নিয়েছেন রোনালদো। ১৫২ ম্যাচে ৮৫ গোল করে তিনি পেছনে ফেলেছেন হাঙ্গেরিয়ান কিংবদন্তি পুসকাসকে। ৮৯ ম্যাচে ৮৪ গোল করেছিলেন হাঙ্গেরি ও স্পেনের হয়ে খেলা প্রয়াত এই ফুটবলার।
এই একটি গোল রোনালদোকে বসিয়ে দিয়েছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার পাশে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের অনন্য এক রেকর্ড পাতাতেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক ছিলেন ম্যারাডোনা। বিশ্বকাপে ছয়টি গোলের মালিক তিনি। মরক্কোর জালে বল পাঠিয়ে রোনালদোও তার গোলসংখ্যাকে নিয়ে গেছেন ছয়ে। সেই হিসেবে অধিনায়ক রোনালদোও এখন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক। আরেকটি গোল করলেই সর্বকালের সেরা ফুটবলারকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি।
নয় মিনিটে আবারও রোনালদোর শাসন। মরক্কোর ডি বক্সে বল পেয়েই শট নেন সিআরসেভেন। কিন্তু তার পায়ের শট গোলপোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। এরপরই খেপে ওঠে মরক্কো। রোনালদোর করা গোলে পিছিয়ে পড়তেই যেন মাথা ঘুরে যায় তাদের। সব ভুলে কেবল আক্রমণেই মন লাগায় তারা।
ম্যাচের ১০ থেকে ২৩ মিনিট পর্যন্ত টানা ছয়টি আক্রমণ করে মরক্কো। কিন্তু পর্তুগালের জালে বল পাঠাতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই ধারা ধরে রাখে মরক্কো। তবুও সমতায় ফেরা হয়নি তাদের।
বিরতি থেকে ফিরেও গোল শোধে মরিয়া মরক্কো বারবার হানা দিয়ে দিয়েছে পর্তুগালের রক্ষণভাগে। ৫৫ মিনিটে গোলের দেখা প্রায় পেয়েই গিয়েছিল তারা। কিন্তু ইউনেস বেলহান্দার অসাধারণ শট ফিরিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক রুই প্যাট্রিসিও।
৫৭ মিনিটেও সমতায় ফিরতে পারত মরক্কো। কিন্তু এ যাত্রাতেও দলটির সামনে বাধার দেয়াল তুলে দাঁড়ান প্যাট্রিসিও। বাকিটা সময় প্রাণপণে লড়েও আর গোলের ঠিকানা পায়নি মরক্কো।
সূত্র:শান্ত মাহমুদ-priyo.com;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.