
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দারুণ জয়ে বিশ্বকাপ শুর করেছিল বাংলাদেশ। সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদও তাই আগের চেয়ে অনেক উপরে উঠে গিয়েছিল। কিন্তু পরে ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারতে হয়েছে টাইগারদের। তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় সেমিফাইনালের সমীকরণটা আরো কঠিন হয়ে গেছে। এরমধ্যে আবার দলের বেশ কিছু ক্রিকেটার ছন্দে নেই। বিশেষ করে ব্যাটে রান পাচ্ছেন না দেশসেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। তার সঙ্গে মোহাম্মদ মিঠুনের পারফরর্ম্যান্স নিয়েও সমালোচনা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে গেছে অধিনায়ক মাশরাফিকে নিয়ে করা সমালোচনাগুলো। এমন কথাও উঠেছে, মাশরাফি যে বোলিং করছেন তাতে তার দলে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই। একমাত্র অধিনায়ক কোটায় তিনি খেলছেন বলেও অনেকই তার দিকে তীর ছুড়ছেন। তবে মাশরাফির সামনে এবার ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন তামিম ইকবাল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে শনিবার (১৫ জুন) সংবাদ সম্মেলনে তামিমকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বভাবসূলভ হাসিমুখেই কড়া জবাব দিয়েছেন। সঙ্গে দেশের দর্শকদের প্রতি কিছু অনুরোধও জানিয়েছেন, নিজেকে নিয়ে সমালাচনা বিষয়ে বেশি কথা না বললেও অধিনায়ক মাশরাফির সমালোচকদের প্রতি তামিমের আকুতি, তারা যেনো এমন একজন লোকের ব্যাপারে সমালোচনা করার আগে একবার সে দেশকে কি দিয়েছে সেটা চিন্তা করে।
তামিম বলেন, ‘কথাটা বলে কারা, সেটা হল খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, কারা কথা বলছে। আমি আমার কথাটা বাদ দেই। আমি মাশরাফি ভাইয়ের কথাই বলি। আমি কোনো একটা ইন্টারভিউতে বলছিলাম যে, ধরেন যারাই এ কথাটা লিখছে অথবা যারাই এটা নিয়ে আলোচনা করছে তারা যদি ওই লেখাটা লেখার আগে বা কথাটা বলার আগে দুইটা মিনিট যদি একটু চিন্তা করে যে আমি কার ব্যাপারে বলছি, সে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য গত পনেরো ষোলো বছর ধরে কী করেছেন। এখন ধরেন (বলা হচ্ছে) সে আনফিট… আনফিটই যদি বলতে হয় তাহলে সে কিন্তু গত দশ বছর ধরেই আনফিট। তার দুইটা হাটু তো কেনো সময়ই ভালো ছিল না। সে তো দশ বছর ধরেই আনফিট। তখন কিন্তু এটা আমরা ইমোশনালি দেখেছি। এখন হয়তো বা একটু উনিশ বিশ হচ্ছে বলে এটাকে আমরা অনেক বড় করে দেখছি।’
মাশরাফির হাত ধরেই আজকের বাংলাদেশের ক্রিকেট এই পর্যায়ে এসেছে উল্লেখ করে তামিম বলেন, এমন একটা ব্যাক্তির ব্যাপারে আমরা কথা বলছি, যারা হাত ধরেই কিন্তু আমরা এখানে এসেছি। টিম হিসেবেও, আমি ব্যাক্তিগতভাবে নিজেও। তাই এটা আমার কাছে খুবই দুর্ভাগ্যজনক মনে হয়। কারণ, উনি যা করেছেন বাংলাদেশ টিমের জন্য, বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এখানে আনার জন্য। উনার ব্যাপারে এভাবে করে কমেন্ট করা বা এভাবে করে আলোচনা করা খুবই আনফেয়ার। আমি মনে করি তার আরো বেশি সম্মান পাওয়া উচিৎ।
যারা তাকে দল থেকে বাদ দেয়ার কথা বলেছেন তাদেরও একহাত নিলেন তামিম ইকবাল। তার ভাষায়, আই ডোন্ট কেয়ার হোয়াটস আদার পিপল আর সেয়িং। কিছু কিছু মানুষ, ধরেন কিছু কিছু বিদেশি ক্রিকেটারা বলেছেন আমি শুনেছি, তো তারা নিজেদের জীবনে কী করেছে! সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল এটা। যে উনারা নিজের জীবনে কি করেছেন যে একটা মানুষের ব্যাপারে এভাবে বলে।
তিনি বলেন, সত্যিকথা হল, আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ না যে, দেশের বাইরের মানুষ কি বলছেন না বলছেন। সবার নিজের মতামত থাকে। সবাই সেটা দিতে পারেন। কিন্তু দেশের মানুষের এটা বুঝা উচিৎ যে, আমি যখন মাশরাফি বিন মুর্তজার ব্যাপারে কথা বলছি তখন চিন্তা করা যে, সে দেশকে কি দিয়েছে। একটা ক্রিকেটারের জীবনে অন্ধকার সময় আসে। আপনি ভালো খেলবেন, খারাপও খেলবেন। আপনি শুধু ভালো খেললেই যে সাথে থাকবেন এরকম তো কোনো কথা নেই। কি কি লেখা হচ্ছে সব আমি জানি না। তবে কিছু জানি। আমি মনে করি, এটা নিয়ে মানুষ অতকিছু চিন্তা না করে উনি দেশের জন্য কি করেছেন সেটা চিন্তা করুক।’
সূত্র: somoynews.tv-ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.