
একের পর এক অঘটনে ধুসর মনে হচ্ছিলো রাশিয়া বিশ্বকাপকে। তবে কোস্টারিকার বিপক্ষে হলুদ আর সবুজের রংয়ে সেন্ট পিটাসর্বুর্গকে রাঙিয়েছেন কৌতিনহো, নেইমার, জেসুসরা। ধারালো আক্রমণগুলো কোস্টারিকার রক্ষণে ঠিক বিদ্ধ করা যাচ্ছিলো না। তবে কি ব্রাজিলও অঘটনের শিকার হবে? ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরেও প্রশ্নটা উকি দিচ্ছিলো। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের যোগ করা সময়ে ত্রাতা হয়ে আসেন ফিলিপে কৌতিনহো। ৯১ মিনিটে গোল করে ব্রাজিলকে নক আউট পর্বের পথে এগিয়ে দেন।
আর রেফারির শেষ বাঁশি বাজানোর কয়েক সেকেন্ড আগে কোস্টারিকার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন নেইমার। ২-০ গোলের উড়ন্ত জয় পায় ব্রাজিল।
ম্যাচের পুরো সময়েই সাম্বায় মাতিয়েছে ব্রাজিল। শুধু গোলটাই আসছিলো না। নেইমার, কৌতিনহো, জেসুসদের মুহুর্মুহু আক্রমণে প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময়ই রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে কোস্টারিকাকে। দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটা সময়ই খেলা হয়েছে কোস্টারিকার রক্ষণের মধ্যে কিংবা আশপাশে।
শুরু দিকে বেশ কিছু ভালো আক্রমণ করলেও তা থেকে গোল আদায় করে নিতে পারেনি মধ্য আমেরিকার দলটি। ১৩ মিনিটে ব্রাজিলের বক্সের মধ্যে বল পেয়েও জালে জড়াতে ব্যর্থ হন। ডান প্রন্ত থেকে গামবোয়ার দারুণভাবে বল বক্সের মধ্যে পাঠান। ফাকা জায়গায় বল পেয়েও গোলের বাইরে দিয়ে পাঠিয়ে দেন বরগাস।
২৬ মিনিটে মার্সেলোর পাস ধরে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়েছিলেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। তবে অফসাউডের পতাকা তুলে দেয়ায় সে যাত্রায় বেচে যায় কোস্টারিকা।
২৭ মিনিটে নেইমার বাম প্রান্ত থেকে বল নিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন নেইমার। তবে গোলরক্ষক নাভাস এগিয়ে এসে তাকে বঞ্চিত করেন।
পরের মিনিটেই মার্সেলোর জোরালো শট গোলপোস্টে পাশ ঘেষে চলে যায়। ২৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেয়া ফিলিপে কৌতিনহোর জোরালো শট পোস্টের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়। ৪০ মিনিটে বক্সের বাম প্রান্ত থেকে মার্সেলোর জোরালো শট রুখে দেন গোল রক্ষক নাভাস।
ম্যাচের ৭৮ মিনিটে কোস্টারিকার বক্সের মধ্যে বল পেয়ে যান নেইমার। গঞ্জালেজকে ঠিকই বোকা বানিয়েছিলেন। তবে গঞ্জালেজ পড়ে যাওয়ার সময় নেইমারের গায়ে একবার হাত দিয়েছিলেন। ব্যাস, পড়ে যান নেইমার। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ক্ষেপে যান কোস্টারিকার খেলোয়াড়রা। ঘিরে ধরেন রেফারিকে। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারির স্মরণাপ্ন হন ফিল্ড রেফারি। সেখানেই ধরা পড়ে গেলো নেইমারের অভিনয়। বাতিল হয়ে যায় পেনাল্টি। অথচ বলটি গোলে শট করার সময় এবং সুযোগ দু’টোই ছিলো নেইমারের।
তবে কলঙ্কটা ঠিকই ঘুচিয়েছেন নেইমার। যোগ করা ৬ মিনিট শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ব্রাজিল আক্রমণে থাকায় শেষ বাশি বাজাননি রেফারি। তখনই রাশিয়া বিশ্বকাপে গোলের খাতা খুলেন নেইমার।
সূত্র:somoynews.tv;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.